Tuesday, 22 July 2014

এখনও বাকি আছে (২৪)


এখনও বাকি আছে
        অঙ্কুর কুন্ডু

আমার অনেক পথ হাঁটা বাকি
জীবন তোমার সাথে
                    মৃত্যু তোমার সাথে
       জীবন-মৃত্যু তোমার সাথে
কিছুটা এগিয়েছি এপাড়
কিছুটা পিছিয়েছি ওপাড়
এখনও বাকি আছে –বাকি পথ হাঁটা

       তোমাদের সাথে যাত্রা শুরু
       তোমাদের মতো কাটানো দিন-রাত
       তোমাদের মতো করে পাল্টাত
       আমিও পাল্টাতাম আমার মত ১৮০ডিগ্রী-তে
       কখনও এক ফালি রোদ ,কখনও কবিতা
       এখনও আমি দর্শক তোমাদের শূন্যতার
আমার অনেক পথ হাঁটা বাকি
জীবন তোমার সাথে
                    মৃত্যু তোমার সাথে
       জীবন-মৃত্যু তোমার সাথে

       এখনও করছি অঙ্গভঙ্গি
       এখনও বেঁকে চলেছি কৃমির মতো
       তোমাদের মতো
       তোমাদের পা-এর মাটি খুঁজছি
       কবর খুঁড়ছি
       তোমাদের ,তোমাদের –ঐ তিন টাকার
       তাপ্পি মারা পকেটে তোমাদের খুঁজছি
কিছুটা এগিয়েছি এপাড়
কিছুটা পিছিয়েছি ওপাড়
এখনও বাকি আছে –বাকি পথ হাঁটা

সমাধির পা-এর নীচে ফাটল
হাত ঢুকিয়ে শুকনো খটখট
ঝড়ের বেগে আছাড় মারবে
বাবুঘাটের পিন্ডি-দানে ,আর
খুলিগুলোর নাম হবে ব্রেন
শুকিয়ে যাওয়া আমসি স্বাদে
যেটুকু জল ছিল –শুষিয়ে নেবে রোদে ;তাই
জীবন তোমার সাথে
                    মৃত্যু তোমার সাথে
       জীবন-মৃত্যু তোমার সাথে
এখনও বাকি আছে –বাকি পথ হাঁটা . . . . .


অপরাহ্নেই মৃত্যু চেয়েছি (২৩)


অপরাহ্নেই মৃত্যু চেয়েছি
অঙ্কুর কুন্ডু


                              
                               বাড়ি থেকে বেরিয়ে
                                                ডানদিকে
                      বাঁদিকে
                      বাঁদিকে
                      বাঁদিকে
                      বাঁদিকে
                               আমার বাড়িতে ফিরে আসা যায় ; শূন্য হাতে গেলে
                               সাথে নিয়ে আসা যায় কিছু ধুলো জুতোর তলে ৷
                               অকস্মাৎ আঙুল কাঁপিয়ে ছক কষে দেখি
                               প্রতিফলিত স্মৃতি সরণের ঘরে বরাদ্দ করেছে ‘ফাঁকি’ ৷

                              
                               বিকেল আসতেই দেখি পিছনে পড়ে আছে
                        দুপুর
                               এবং সামনে সেই
                                                জ্বলন্ত সন্ধ্যা
                               ইউরোপের আগ্নেয়গিরির মতো জ্বলছে , এবং
                               কাঁচের শার্সিতে মাথা হেলিয়ে আমি গুনছি
                               রাতের . . . এখন বিকেল . . .
                               অসহিষ্ণু রোদ মুখে পড়ছে ,
                               মুখে পুড়ছে শেষ চুল্লীর স্মৃতি , মাথা ঘোরার আগে
                               কফির কাপে আলগা ঠোঁট রক্তের ছাপের মতো শুকিয়েছে ৷

                              
                               রাত হলেই একবার বাথরুমে যাই
                               চৌকাঠ ডিঙিয়ে যেখানে থমকে যাই , তা হল
                       ওপার
                               কারণ এখানেই আমি অতীত দেখতে পাই ,
                               চামড়ার সাথে চামড়ার নিবিঢ় সম্পর্ক দেখি ,
                               প্রমাণ পাই যে , আমি কতটা নীচে নামতে পারি
                               আর সুলগ্নার শরীর ছুঁয়ে কোথায় টেনে দিই
                               দাঁড়ি
                               এরপর সমগ্র মেঝেকে আর্দ্র করে ফিরে আসি
                                                                        এপারে ৷


                               সকালের রোদটা জানালার ফাঁকে তেমনই মসৃণ
                               যেমন রেললাইনের উর্ধ্বতল চকচক করে ৷
                               আমারই অলস চোখের ইশারা
                               অনুমতি দিয়েছে জানালার গরাদগুলিকে . . .
                               তারা যেন এই বেয়াড়া চামড়ায় দাগ আঁকে !
                               চাদরে ও বালিশে ঘাম ঘষে
                               যখন বিছানা থেকে উঠলাম , দেখলাম
                               কোমর ছাড়িয়ে প্যান্টটা . . .
                               সঠিক স্থানেই আটকে ৷ কোনওদিকে না বেঁকে
                               টলমল জলে মুখ দেখে আজ বিকেল খুঁজে পাই না !

                              
                               অকস্মাৎ আঙুল কাঁপিয়ে ছক কষে দেখি : মাথা ঘোরার আগে
                               কফির কাপে আলগা ঠোঁট রক্তের ছাপের মতো শুকিয়েছে ,
                               এখানেই আমি অতীত দেখতে পাই , আর
                               বিকেল খুঁজে পাই না ৷ তাই , অ-দেখা বিকেলের আগে
                               অপরাহ্নেই মৃত্যু চেয়েছি !


ল্যাবরেটরী : সুলগ্না-কে হারিয়ে ফেলেছে (২২)


ল্যাবরেটরী : সুলগ্না-কে হারিয়ে ফেলেছে
                   অঙ্কুর কুন্ডু


 এক কোণে পড়ে ফুল-আঁকা স্কার্ফ –
        কোনো দামী সুগন্ধির আশ্চর্য ভালোবাসা
ওর বয়স কমিয়েছে নিশ্চয় !
আমিও তো দীর্ঘ শতাব্দীগুলি এড়িয়েছি
বহু মনীষার অদ্বিতীয় স্বামী-রূপে -
বিক্রিয়ায় কমিয়েছি নিজের এড়িয়ে যাওয়া বছর ৷
        সুলগ্না শেষ কবে স্কুলে এসেছিলো –মনে নেই ,
        স্কার্ফটা সুলগ্নার –মনে আছে ৷

দীর্ঘ ক’দিন বহু অবহেলায় মেঝেতে
ঠান্ডা লাগিয়ে কষ্ট পেয়েছে ,
দীর্ঘ ক’রাত হেলায় বিলিয়েছে স্মৃতি ,
মেলে ধরেছে সেলাই-খোলা সুতো -
        যেন চূর্ণ চুলের ডগা খুঁজেছে আমার ঠোঁট ,
        খুঁজেছে নোনা দেওয়ালের মাঝে সিক্ত কিছু পাতা ৷
        দু’চারটে মাকড়সা স্কার্ফেই মুছে নিয়েছে ঘাম -
        আবার ঐ আট-পা চলছে ছুটে !

শনিবারের পড়ন্ত বিকেলের পরে
আজ প্রথম খুললো ল্যাবরেটরী ,
কিছু ধুলো বেরুলো , কিছু স্মৃতির পাশে দাঁড়ি ,
একজন স্কার্ফটা তুলে দরজার বাইরে -
        যেন কোনো ছোটো পিঁপড়ে চলতে শিখেছে
        অথৈ জলের ঢেউয়ে ৷ চিনি মিশিয়ে
        সুগার বাড়াচ্ছে পিঁপড়ের ঠোঁটে ৷
        ধীরে ধীরে অদৃশ্য স্কার্ফ , অদৃশ্য সুলগ্না !

আমার পর্দা-ঝোলা কঠিন বেলা
জানালার ধারে নেই ,
অগোছালো কিছু টিউব স্পর্শ ধুয়েছে ৷
‘সুলগ্না’ নামের সেই নারী কবে দেওয়াল ছুঁয়ে
পা রেখেছে মেঝের ওপর !
সে তো নির্জন শীতের ভোরে
একা ও ‘আমি’ –পাশে ধোঁয়া নিয়ে
মাটি চেয়েছে !